২০৫০ সাল

ইউরোপের বিদ্যুৎ চাহিদার ৮০% পূরণ করবে মহাকাশে স্থাপিত সোলার প্যানেল

সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে পৃথিবীতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধারণা নতুন নয়। বাড়ির ছাদে বা খোলা জায়গায় সোলার প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেশ সাধারণ চিত্র।

সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে পৃথিবীতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধারণা নতুন নয়। বাড়ির ছাদে বা খোলা জায়গায় সোলার প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেশ সাধারণ চিত্র। সে জায়গায় এখন মহাকাশে সোলার প্যানেল বসিয়ে ইউরোপের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের কথা ভাবা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ইউরোপের জ্বালানি ব্যবস্থাকে পুরোপুরি বদলে দেয়া যাবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

সাম্প্রতিক এক গবেষণা থেকে জানা গেছে, মহাকাশভিত্তিক সৌর প্যানেল ২০৫০ সালের মধ্যে ইউরোপের স্থলভিত্তিক নবায়নযোগ্য জ্বালানির ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে।

কিংস কলেজ লন্ডনের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি বিশদ কম্পিউটার মডেলিংয়ে দেখা গেছে, যদি মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার নকশা করা এ মহাকাশভিত্তিক সৌরশক্তি (এসবিএসপি) ব্যবস্থা ইউরোপের ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত করা হয়, তবে পুরো ইউরোপীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার খরচ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংরক্ষণের জন্য ব্যাটারির ব্যবহারও দুই-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনা যাবে।

বর্তমানে প্রচলিত সৌর প্যানেলের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো এটি আবহাওয়ানির্ভর। মেঘলা দিনে বা রাতে এটি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে না, যা নির্ভরযোগ্য সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করে। কিন্তু মহাকাশে স্থাপন করা সৌর প্যানেলগুলো বায়ুমণ্ডলের ওপরে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে সূর্যের আলো পাবে। নাসার নকশা করা এ ব্যবস্থায় এক ধরনের আয়নাসদৃশ প্রতিফলক (হেলিওস্ট্যাট) ব্যবহার করা হয়, যা সূর্যের আলো সংগ্রহ করে পৃথিবীতে থাকা কেন্দ্রে পাঠাতে সক্ষম। এরপর এ শক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করে গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। প্রযুক্তিটির মাধ্যমে গিগাওয়াট-পর্যায়ের বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।

তবে প্রযুক্তিটির বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, তাদের তৈরি মডেলিংয়ে কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে কক্ষপথের জট, বিম বা রশ্মির মাধ্যমে পৃথিবীতে বিদ্যুৎ পাঠানোর ক্ষেত্রে নানা বাধা, বিদ্যুৎ পাঠানোয় দুর্বলতার মতো মহাকাশসংক্রান্ত সমস্যা। এছাড়া মহাকাশে এ ব্যবস্থা নির্মাণ, উৎক্ষেপণ ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ অনেক বেশি। প্রযুক্তিগত উন্নতি না হলে ২০৫০ সালের আগে বড় আকারের এ খরচ কমানো সম্ভব হবে না।

গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক ড. ওয়েই হি বলেছেন, ‘এ প্রযুক্তিতে কিছু ঝুঁকিও বিবেচনায় আনতে হবে। যেমন একটি স্যাটেলাইটে যদি অতিরিক্ত সৌর প্যানেল থাকে, তবে তা গ্রহাণু বা মহাকাশের বর্জ্যের সঙ্গে সংঘর্ষের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে?’

এসব ঝুঁকি সত্ত্বেও ওয়েই বিশ্বাস করেন, গবেষণাটি প্রমাণ করে যে মহাকাশভিত্তিক সৌরশক্তি নিট জিরো লক্ষ্য অর্জনে দেশগুলোকে সাহায্য করতে পারে। তিনি বলেন, ‘জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প হিসেবে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করা আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। জাপান ও ইউরোপ এরই মধ্যে এ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু করেছে।’

এবং ইউরোপও তাদের আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বিনিময় ও স্যাটেলাইট উদ্যোগে তাদের বহুজাতিক সহযোগিতা কাজে লাগিয়ে একটি সমন্বিত মহাকাশভিত্তিক সৌর অবকাঠামো তৈরি করতে পারে।’

আরও